চেন হাও, এক জন হোটেলের ওয়েটার, যে উচ্চ মাধ্যমিকও পাস করতে পারেনি, সাধারণ ছাপোষা মানুষের চেয়েও সাধারণ। যখন সে ভাবছিল তার গোটা জীবন এভাবেই নিষ্প্রভভাবে কেটে যাবে, তখন হঠাৎ করেই সৌভাগ্য তার দরজায় কড়া নাড়ল—সে পেয়ে গেল 'সৃষ্টির মহাদেশ' নামের একটি গেমের পরীক্ষামূলক সংস্করণের সক্রিয়করণ কোড। সেই মুহূর্ত থেকে তার জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে শুরু করল... ভার্চুয়াল জগত আর বাস্তব জগতের সংঘাতে ঠিক কী ঘটে? গেমের মিষ্টি মেয়েটি বাস্তবে যে... ওহ, ঈশ্বর, এ তো অবিশ্বাস্য! হাস্যরস, উত্তেজনা, হৃদয়ছোঁয়া রোমান্স, আর চমক—সবই রয়েছে এই গল্পে!
বিস্তীর্ণ এক তৃণভূমি। ঘাস মোটা, ফুল ফুটেছে। প্রজাপতি উড়ছে। পাশের ঝোপে হরিণ খেলা করছে।
হঠাৎ এক তীব্র আলো এই তৃণভূমির শান্তি ভেঙে দিল।
"গমগম"
আলোর সাথে আসা প্রচণ্ড শব্দে তৃণভূমির মাঝখানে একটি বড় গর্ত তৈরি হলো। পৃথিবী যেন উলটে-পালটে গেল।
বিস্ফোরণের জায়গা থেকে এক সোনালি বর্ম পরা যোদ্ধা বেরিয়ে এল। হাতে তরবারি, শরীরে সোনালি আভা। দেবদূতের মতো উজ্জ্বল। তিনি সেই আলোর উৎসের দিকে এগিয়ে গেলেন—একজন সাদা পোশাকের বৃদ্ধের দিকে।
সাদা পোশাকের বৃদ্ধ হাতে থাকা জাদুর লাঠি নাড়ালেন। সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে একটি স্বচ্ছ বিশাল ঢাল দেখা দিল।
মুহূর্তে সোনালি বর্মধারী যোদ্ধার তরবারি সেই ঢালে আঘাত করল। নীল স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ল।
দৃশ্য পাল্টে গিয়ে আরেক মহাদেশে চলে গেল।
এক বিশাল দুর্গের সামনে সাজানো সারি সারি ঘোড়সওয়ার। পেছনে বিশাল সেনাবাহিনী। চারপাশে নানা আক্রমণের যন্ত্র। দুর্গের গায়ে সাজানো সেনারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কালো বর্ম পরা এক ঘোড়সওয়ার সারির সামনে এসে এই সুদৃঢ় দুর্গের দিকে তাকিয়ে ডান হাত তুলে হালকা নাড়লেন।
"আক্রমণ!"
কালো বর্মধারীর পেছনে যুদ্ধের শিঙা বেজে উঠল। সেনারা চিৎকার করে দুর্গের দিকে এগোতে লাগল। পেছনের জাদুকরদের দল মন্ত্র পড়তে শুরু করল। নানা রঙের জাদুর গোলা দুর্গের দিকে উড়তে লাগল।
দুর্গের ওপর সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা ঢাল দেখা দিল। পুরো দুর্গ ঢেকে ফেলল।
দূর থেকে "উঁউউউ" শব্দ শোনা গেল। কালো ছায়া উড়ে আসছে। কাছে এলে দেখা গেল সিংহের শরীর, ঈগলের মাথার প্রাণী। তার ওপর বসে আছে তীরন্দাজ।
খুব শীঘ্রই তারা দুর্গের ওপর পৌঁছে নিচের শত্রুদের দিকে তীর ছুঁড়তে লাগল।
যুদ্ধ উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
...
চেন হাও মোড়ের বিল্ডিংয়ের পর্দায় এই দৃশ্য দেখছ