কৃষিকাজ করা
খাদ্যই মানুষের জীবন এবং কৃষিকাজই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। শস্যভাণ্ডার পূর্ণ থাকলে মানুষ শিষ্টাচার শেখে, অন্নবস্ত্রের সংস্থান থাকলে মানুষের মধ্যে নীতিবোধ ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়। তাই পূর্ব প্রান্তের মাঠে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করা এবং যথাসময়ে কৃষিকাজের নির্দেশ দেওয়া শাসকের কর্তব্য।
রাষ্ট্রের কাছে যদি নয় বছরের শস্য মজুত না থাকে, তবে বন্যা বা খরা মোকাবিলা করা অসম্ভব; পরিবারের কাছে যদি এক বছরের পোশাক না থাকে, তবে শীত-গ্রীষ্মের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। অথচ মানুষ আজ গবাদি পশুর মায়া ত্যাগ করে বিলাসিতার পেছনে ছুটছে, কৃষির মতো সুদৃঢ় ভিত্তি ছেড়ে কৃত্রিমতার আশ্রয় নিচ্ছে। লাভের আশায় কৃষিকাজ ও রেশম চাষের মূল ভিত্তি ধ্বংস করা হচ্ছে। একজন কৃষক ফসল ফলায় আর শতজন তা ভোগ করে—এর কুফল পতঙ্গদষ্ট ফসলের চেয়েও ভয়াবহ।
তাই বিলাসিতা নিষিদ্ধ করে কৃষিকাজ ও বস্ত্রবয়নকে উৎসাহিত করাই শ্রেয়। মানুষ যদি তাদের মূল পেশায় ফিরে আসে এবং সহজ-সরল জীবনধারায় অভ্যস্ত হয়, তবেই সবার মনে দয়া ও ন্যায়ের উদয় হবে এবং লোভ ও নিষ্ঠুরতার পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে। কৃষিকাজকে গুরুত্ব দেওয়াই হলো এর মূল চাবিকাঠি।
শাসকের দায়িত্ব হলো প্রজাদের সন্তানের মতো লালন করা, আর এর জন্য প্রয়োজন কঠোরতা ও দয়ার সমন্বয়। শাসকের দয়া যদি প্রজাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়, তবে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষও মুগ্ধ হয়ে আনুগত্য প্রকাশ করবে, ঠিক যেমন শীতের তুষারের পর বসন্তের সূর্যের ছোঁয়ায় প্রকৃতি জেগে ওঠে। আবার শাসকের কঠোরতা যদি ভীতি সঞ্চার করে, তবেই শত্রু ও মিত্র সবাই সতর্ক থাকবে, যেমন ধারালো তলোয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে মাথার ওপর বজ্রপাতের ভয়।
শাসককে দয়া ও কঠোরতা—উভয়ই সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। নিয়ম এমন হওয়া উচিত যেন কেউ তা লঙ্ঘনের সাহস না পায়, আর শাসকের কথা যেন অটল থাকে। পুরস্কার ও শাস্তির বিধান স্পষ্ট হলে ভালো ও মন্দের পার্থক্য সুনিশ্চিত হয়; দয়া ও বিশ্বাসের প্রসার ঘটলে দূর-নিকটের সবাই শান্তিতে বসবাস করে।
কৃষিকাজকে উৎসাহিত করলে ক্ষুধা ও শীতের ভয় দূর হয়, বিলাসিতা কঠোরভাবে দমন করলে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। শাসকের প্রভাব প্রজাদের ওপর বাতাসের মতো, যা ঘাসকে মাটির দিকে নুইয়ে দেয়।
শাসক যদি নিজের আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে প্রজারা অলস হয়ে পড়বে। শাসক নিজে সংযমী না হয়ে যদি প্রজাদের অন্যায় করতে নিষেধ করেন, তবে তা অনেকটা আগুন নেভানোর জন্য তাতে কাঠ দেওয়ার মতো অথবা ঘোলা জল পরিষ্কার করার জন্য লাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করার মতো—এতে ফল পাওয়া অসম্ভব।
নিজের চরিত্রকে আগে সংশোধন করাই শ্রেষ্ঠ উপায়, তাতে কোনো বাক্য ব্যয় ছাড়াই মানুষ নিজে থেকেই সুপথে ফিরে আসবে।