একচল্লিশতম অধ্যায় আমি দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দেব

প্রতিটি মুহূর্তে স্নেহ! সাবেক প্রেমিকের কাকা প্রতিদিন আদরে ভরিয়ে দেন! ক্রিমযুক্ত কচুর বরফ 2491শব্দ 2026-02-09 17:17:13

“বাঁধাকপি!’’
সময় ছিল না ভাবার, আনান মুখ ফসকে চিৎকার করে উঠল, সেই ছায়ামূর্তিকে থামাল, যে চুপিচুপি সরে যেতে চাইছিল, ‘‘বাঁধাকপি, এদিকে এসো!’’
সবার চোখ একসাথে বাঁধাকপির দিকে ঘুরে গেল।
এতে আনান একেবারে স্পটলাইটে আটকা পড়ে গেল, কোথাও লুকানোর উপায় নেই।
যে নারী আনানকে মারার প্রস্তাব দিয়েছিল, সে সন্দিগ্ধভাবে বাঁধাকপির দিকে তাকাল, ‘‘তোমরা কি পরস্পরকে চেনো?’’
‘‘না...’’
‘‘আমি বাঁধাকপির দিদি,’’ আনানের গলায় দৃঢ়তা।
প্রতি বার এমন বললে, বাঁধাকপি অগ্নিমূর্তিতে ফেটে পড়ে, যেনো তার সমস্ত যুক্তি হারিয়ে গেছে, উন্মত্ত কুকুরের মতো যাকে-তাকে কামড়াতে উদ্যত।
বস্তুত তাই-ই হলো।
‘‘তুমি মিথ্যে বলছ!’’
বাঁধাকপি যেনো আগুনে ঘি পড়েছে, লেজে পা পড়া বিড়ালের মতো মুখে ফেনা তুলে গালাগালি শুরু করল, ‘‘তুমি আমার দিদি নও, আনান! আমরা এক মায়ের সন্তানই নই! আমি তোমার চেয়ে কত উচ্চশ্রেণির! তোমার সেই অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া মায়ের কী সাহস আমাদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ে?
‘‘তুমি যদি আর বাজে কথা বলো, বাড়ি ফিরে বাবাকে জানিয়ে দেবো, সে তোমাকে ভালোভাবেই শিক্ষা দেবে!’’
এবার আর কেউ আনানের কথায় সন্দেহ করল না।
বাঁধাকপি তো নিজের মুখেই সব বলে ফেলেছে।
সে বুঝতে পারল কী ভুল কথা বলে ফেলেছে, ভয়ে তটস্থ, দ্রুত নেত্রীকে ধরে বলল, ‘‘আমাকে ওর সঙ্গে একা কথা বলতে দাও, কে জানে ওর পেছনে কেউ আছে কিনা।’’
‘‘এটা খুব সম্ভব, ও নিশ্চয়ই হাওয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী দলে,’’ নেত্রীর মুখ কালো হয়ে গেল।
সে দায়িত্ব দিল বাঁধাকপিকে, ‘‘আমাদের হাওয়ের পাশে দাঁড়াতে হবে, যারা ওর উত্থানে বাধা দিতে চাইছে তাদের মুছে ফেলতে হবে!’’
‘‘ঠিক, তোমরা বাইরে যাও,’’ বাঁধাকপি শুকনো হাসি দিল।
দরজা বন্ধ হতেই বাঁধাকপি ভয়ানক মুখ করে ঘুরে এলো, যেনো ভূতের মতো ধীরে ধীরে আনানের দিকে এগিয়ে এল।
বাঁধাকপি হাওয়ের ভক্ত ছিল না, নেহাতই অনলাইনে ঘোরাঘুরির সময় হাওয়ের ভক্তদের দলবদ্ধ গালিগালাজ দেখতে পেয়েছিল।
তারা বলছিল, হাওয়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এমন কাউকে শাস্তি দেবে!
তবে হাওয়ের জনপ্রিয়তা কম থাকায়, ব্যাপারটা খুব একটা আলোড়ন তুলতে পারেনি।
শুরুতে বাঁধাকপি কেবল মজা দেখছিল, হঠাৎ দেখল সাক্ষাৎকারটা আনান লিখেছে, সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথায় পরিকল্পনা জন্ম নিল।
সে ইচ্ছাকৃতভাবে ভক্তদলে যোগ দিল, আনানের তথ্য ফাঁস করে দিল হাওয়ের ভক্তদের হাতে।
সে নিজে এসেছিল, আনানকে অপদস্থ হতে দেখবে বলে; সুযোগ পেলে ছবি-ভিডিও তুলবে—কিন্তু ভাবেনি আনান ওকে চিনে ফেলবে।
এমনকি ওকে ফাঁদেও ফেলতে চাইছে!
বাঁধাকপি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল, ‘‘ভাগ্য ভালো বুদ্ধি খাটিয়েছি, নাহলে তোর জন্যই মরতাম!’’
‘‘বুদ্ধি?’’
আনান ঠোঁটে ব্যঙ্গসুর এনে, কুকুরের মতো তাকিয়ে হেসে উঠল।
‘‘তুই যদি সত্যিই বুদ্ধিমান হতে, এখানে আসতিই না।’’
‘‘কারণ এটা অপরাধ!’’
‘‘যদি ব্যাপারটা ফাঁস হয়, আমাদের পরিবারের মান-ইজ্জত থাকবে না! তখন দেখব, বাবা তোকে আগের মতো আদর করবে, না আড়াল দেবে!’’
এই কথা শুনে বাঁধাকপি ভয় পেয়ে গেল।
সে প্রাণপণে মাথা ঘামিয়ে নিজেকে বাঁচানোর উপায় খুঁজতে লাগল, যতই চেষ্টা করে, কিছুই মাথায় আসছে না।
সব দোষ আনানের ঘাড়ে চাপাল।
সে চেঁচিয়ে উঠল, ‘‘সব তোর জন্য! তোর জন্যই এই জঘন্য ঝামেলায় জড়িয়েছি! নষ্টা, কেন মরিস না! তুই আর তোর মৃত মায়ের সঙ্গে মরলেই তো পারতি!’’
আনান নির্বিকার দৃষ্টিতে তার উন্মাদনা দেখল।
তার পিছনে বাধা হাত দু’টো আস্তে আস্তে নাড়া দিচ্ছিল, সে মাঝেমধ্যে আত্মরক্ষার ভিডিও দেখে কৌশল শিখেছে—বাঁধা থাকলে কীভাবে মুক্ত হতে হয়।
‘‘এবার যথেষ্ট।’’
‘‘যে মহিলা আমাকে মেরেছিল, তাকে ভেতরে ডাকো, আমি কেবল তার সঙ্গেই বলব কে আমাকে এটা করতে বলেছিল।’’
বাঁধাকপি অবাক হয়ে গেল, সে যে আন্দাজে বলেছিল, ঠিকই ধরে ফেলেছে!
সে বারবার হুমকি দিল, ‘‘যা বলা উচিত, সেটাই বলবি, বাড়তি কিছু বলবি না—নইলে বাড়ি ফিরেই মাকে দিয়ে তোকে চাবুকপেটা করাবো!’’
কিছুক্ষণ পর, একজনই এলো।
সে হলো সেই নেত্রী, যে আনানকে মেরেছিল।
বাঁধাকপি ওর সঙ্গে কথা বলার সময়, আনান বুঝে গেল, এই নারীর নাম চাঁদনি, সে হাওয়ের বড় ভক্ত—তাকে নিয়ে কেউ খারাপ কিছু বললে, তিন দিন তিন রাত যুদ্ধ করতেও পিছপা নয়!
চাঁদনি ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে আনানের দিকে চাইল।
‘‘বল, কে তোকে পাঠিয়েছে?’’
আসলে কেউ আনানকে পাঠায়নি, সে শুধু বাঁধাকপি আর চাঁদনির কথাবার্তা শুনে পরিকল্পনা বদলেছে।
আনান চাঁদনিকে কাছে আসতে ইশারা করল।
বাঁধা শক্ত দেখে চাঁদনি এগিয়ে এল।
‘‘নিশ্চয়ই মেঘবরণ? ও তো হাওয়ের মতোই লেখে, নতুন বইও বেশ চলেছে, এমনকি সিনেমায় নামছে, সে...’’
ঠাস!
একটা জোরালো চড় চাঁদনিকে হতবিহ্বল করে দিল।
সে অবাক হয়ে আনানের দিকে তাকাল, বুঝে উঠতে পারল না, কে মারল, আনান তো বাঁধা!
ঠাস!
আরেকটা চড়।
এবার চাঁদনি দেখল, সত্যিই আনানই মারল। কিন্তু সে তো বাঁধা ছিল?
আনান অনেক আগেই বাঁধন খুলে ফেলেছে, চাঁদনির সন্দেহ দূর করতে হাত পিছনে রেখেছিল, সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।
‘‘যা পাই, ফেরত দিই দ্বিগুণ করে।’’
চাঁদনি কিছু বোঝার আগেই, আনান ওকে বেঁধে, মুখে নোংরা কাপড় গুঁজে দিল।
সব মিলিয়ে পাঁচ মিনিটও লাগেনি।
এখনও চাঁদনি বিশ্বাস করতে পারছে না, কীভাবে অবস্থার এত দ্রুত বদল হলো!
‘‘উঁ-উঁ!’’
আনান নিজের হারানো ব্যাগটা ফিরে পেল, কিছুই কমেনি, সেখান থেকে একটি অতিরিক্ত ফোন বের করল, ভালোভাবে সেট করল।
এসব করল চাঁদনির চোখের আড়ালে।
সব ঠিকঠাক করে, আনান চাঁদনির সামনে এসে তার ফুলে ওঠা গালে টোকা দিল, ‘‘হাওয়ের এমন ভক্ত পেয়ে আট পুরুষের দুর্ভাগ্য!’’
‘‘উঁ-উঁ-উঁ!’’ চাঁদনি রাগে চোখ বড় বড় করে আনানকে গিলে ফেলার মতো তাকাল।
আনান আর কিছু বলল না, অতিরিক্ত ফোনে লাইভ চালু করে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল।
ধাক্কা!
দরজা খুলে গেল, বাকিরা দলে দলে ভেতরে ঢুকল।
তারা চাঁদনিকে বাঁধা দেখে হতভম্ব, ‘‘এ কী হলো? আনান কোথায়? ও কি চাঁদনিকে বেঁধেছে?’’
কেউ একজন চাঁদনির বাঁধন খুলল।
মুক্ত হতেই সে পাগলের মতো চিৎকার করল, ‘‘আমি আনানকে মেরেই ফেলব!’’
‘‘আমরা তো হাওয়ের জন্যই করছি, ন্যায়ের জন্য!’’
‘‘তোমরা সবাই মিলে আনানকে এখানে এনে বিচার করছিলে—এখন দেরি না করে চলো, ওকে ধরি!’’
‘‘এইবার ওকে এমন শিক্ষা দেব, জীবনটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠবে!’’
‘‘ওকে আমাদের হাওয়ের ভবিষ্যতের জন্য বলি দিতেই হবে!’’
ঠিক তখনই, দরজা লাথি মেরে খুলে গেল।
একদল পুলিশ ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে পড়ল!