চুয়াল্লিশতম অধ্যায়

তার প্রধান ব্যক্তি হাঁপানো ভাই 2640শব্দ 2026-02-09 17:23:14

ওই মুহূর্তে যখন ওয়েন মিং ই-শিয়াও ইউ-কে বার্তা পাঠায়, ই-শিয়াও ইউ তখনও শোবার ঘরে পোশাক বদলাচ্ছিল। ইউ লাও দা সদ্য সবুজ ভাইয়ের জন্য কুকুরের খাবার ঢেলে, খাবার টেবিলের সামনে যেতেই ওয়েন মিং-এর পাঠানো বার্তার সতর্কতা চোখে পড়ে।

ইউ একটা বার্তা খুলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ই-শিয়াও ইউ শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। সে তড়িঘড়ি হাত সরিয়ে নেয়, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ঘর ছেড়ে চলে যায়। কিছুটা দূর গিয়ে সে পিছনে তাকিয়ে দেখে, ই-শিয়াও ইউ মোবাইলটি টেবিল থেকে তুলে নিয়ে বাইরে যেতে প্রস্তুত।

‘‘মোটা, আজ রাতে আমি হয়তো খুব দেরি করে ফিরব।’’ ই-শিয়াও ইউ দরজার কাছে এসে আবার ঘুরে ইউ লাও দা-কে বলে, ‘‘সবুজ ভাই আর টাং ইউয়ান-কে খাইয়ে দিও ভুলে যেয়ো না।’’

‘‘হুম,’’ ইউ লাও দা মাথা নাড়ে, তবে দুই চোখ ই-শিয়াও ইউ-র ফোন থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরায় না, মনে মনে ভাবতে থাকে, ওয়েন মিং কী বার্তা পাঠিয়েছে ই-শিয়াও ইউ-কে।

ওই সাদা চেহারার ছেলেটার এবার শিক্ষা পাওয়া উচিত।

ই-শিয়াও ইউ গাড়িতে উঠে তবে মোবাইলের এসএমএসটা দেখে। কিছুক্ষণ দ্বিধায় পড়ে, অবশেষে উত্তর দেয়—সন্ধ্যা সাতটায় দেখা হবে।

এই সময়ে ই-শিয়াও ইউ বেশ ক্লান্ত, কোম্পানিতে অস্থিরতা চলছে, ব্যাংকও যেন আগে থেকেই গন্ধ পেয়ে চাপ দিতে শুরু করেছে।

ওয়েন মিং যখন ই-শিয়াও ইউ-কে দেখে, প্রথম কথাটাই বলে, ‘‘তুমি শুকিয়ে গেছো।’’

ই-শিয়াও ইউ কোনো আবেগ দেখায় না, সরাসরি বলে, ‘‘তুমি বলেছিলে আমাকে সাহায্য করতে পারবে, কীভাবে?’’

‘‘আমি আমার কোম্পানি দিয়ে তোমার প্রকল্পের জন্য জামিন দিতে পারি, যাতে সেটা নির্বিঘ্নে এগোয়।’’

ই-শিয়াও ইউ বিস্ময়ে ওয়েন মিং-এর দিকে তাকায়, ‘‘তুমি তো জানোই না আমার এখানে কী হয়েছে, ভয় পাও না সব হারানোর?’’

‘‘কিছু না,’’ ওয়েন মিং হালকা হাসে, ‘‘বেশি হলে তোমার সঙ্গে আবার নতুন করে শুরু করব।’’

ই-শিয়াও ইউ নিচের দিকে তাকায়, ‘‘তোমার এত কিছু করার দরকার নেই, তুমি জানো, তুমি যতই দাও, আমাদের তো...’’

‘‘আমি শুধু এই পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে সাহায্য করতে চাই, কে-ই বা পারে ভালোবাসার মানুষ বিপদে পড়লে চুপচাপ থাকতে?’’

ই-শিয়াও ইউ মুখ খুলে অবশেষে শুধু দু’টি শব্দ বলে, ‘‘ধন্যবাদ।’’ ওয়েন মিং-এর সাহায্য সত্যিই তার জরুরি মুহূর্তে উপকারে আসবে।

‘‘তুমি জানো না,’’ হঠাৎ হেসে ওঠে ওয়েন মিং, ‘‘আজ আমার জন্মদিন।’’

‘‘আ...?’’ ই-শিয়াও ইউ-র মুখ নিমেষে বিবর্ণ হয়ে যায়, ভাবতে ভাবতে মনে পড়ে সত্যিই আজ ওয়েন মিং-এর জন্মদিন, ‘‘আমি... আমি এত ব্যস্ত ছিলাম যে ভুলে গেছি। জন্মদিনের শুভেচ্ছা।’’

ওই ছেলেটা এত বড় উপকার করল, উপহার দেওয়া উচিত ছিল তার।

‘‘কোনো সমস্যা নেই, জানি তুমি কোম্পানির কাজে ব্যস্ত,’’ ওয়েন মিং কোমল স্বরে বলে, ‘‘রাত আটটায়, আমার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে একটা ঘরে জন্মদিনের ছোট আয়োজন করেছি, তুমি আসবে?’’

‘‘অবশ্যই, তুমি আমাকে এত বড় সাহায্য করলে, এতটুকু তো আমার কর্তব্য।’’

‘‘তোমার সঙ্গী...’’

‘‘এটা সে নিশ্চয়ই বুঝবে।’’

---------------------

ঘরের ভিতরে ঢুকে ই-শিয়াও ইউ বুঝল, এখানে কাউকেই সে চেনে না।

‘‘ওরা সবাই আমার সহকর্মী,’’ ওয়েন মিং একে একে তার বন্ধুদের পরিচয় করায়।

ইউ লাও দা ই-শিয়াও ইউ-এর মোবাইলে লাগানো ট্র্যাকিং সিগন্যাল ধরে এই পানশালায় এসে পৌঁছায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে ঢোকে না, বরং রাস্তার ওপারে গাড়িতে বসে ধূমপান করতে করতে পানশালার দরজার দিকেই তাকিয়ে থাকে।

মাঝপথে ইউ লাও দা ইচ্ছাকৃত ফোন করে জানতে চায়, ই-শিয়াও ইউ কখন বাড়ি ফিরবে। ই-শিয়াও ইউ জানায়, সে কাজে আছে, ফিরতে দেরি হবে।

ই-শিয়াও ইউ সত্যি কথা বলে না, ভয় পায়, ইউ লাও দা যদি জানতে পারে সে ওয়েন মিং-এর জন্মদিনে এসেছে, তাহলে সব উপেক্ষা করে ছুটে আসবে, আর ওয়েন মিং-এর সাহায্যও মাটি হবে।

ব্যাখ্যা তো পরে বাড়িতে গিয়েই দেওয়া যাবে।

ইউ লাও দা ই-শিয়াও ইউ-এর এই মিথ্যাকে রাগ হলেও প্রকাশ করতে পারে না, এমনকি ভয় পায় ই-শিয়াও ইউ বুঝে ফেলবে সে গোপনে অনুসরণ করছে, তাই কোনো কিছুই প্রকাশ করে না, ফোন রেখে একের পর এক সিগারেট ফুঁকে চলে।

ওই দু’জনের কি এমন কথা আছে, যা পানশালাতেই বলতে হবে!

অনেকটা সময় কেটে যায়, ই-শিয়াও ইউ অবশেষে পানশালা থেকে বেরোয়। ওয়েন মিং-এর বন্ধুরা ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েন মিং-কে ই-শিয়াও ইউ-এর সাথে পাঠিয়ে দেয়, সে যেন ওয়েন মিং-কে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

ই-শিয়াও ইউ মাতাল ওয়েন মিং-কে গাড়িতে তোলে, ওর ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

‘‘ওয়েন মিং, তুমি কোথায় থাকো?’’

ওয়েন মিং অস্পষ্টভাবে ঠিকানা বলে, তারপর সিটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

ই-শিয়াও ইউ সরাসরি ওয়েন মিং-এর অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েন মিং আচমকা ই-শিয়াও ইউ-র কোমর জড়িয়ে ধরে, তাকে দরজার সঙ্গে ঠেসে ধরে, জোরে চুমু খায় তার ঠোঁটে।

ই-শিয়াও ইউ মুখ ঘুরিয়ে নেয়, ওয়েন মিং তখন তার গলা চুমু খেতে থাকে, এমনভাবে টেনে ধরে যেন ই-শিয়াও ইউ-কে গিলে খেতে চায়।

‘‘তুমি জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি...’’ ওয়েন মিং-এর গলায় কান্না, ‘‘কত চাই তোমার সঙ্গে থাকতে...তুমি তো আমারই হওয়া উচিত।’’

‘‘ওয়েন মিং, তুমি মাতাল হয়ে গেছো,’’ ই-শিয়াও ইউ ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়, নিজের পোশাক গুছিয়ে নেয়, ‘‘তুমি যদি ঠিকই থাকো, তবে আমি চললাম।’’

ওয়েন মিং হঠাৎ আবার জড়িয়ে ধরে, দু’জনে মিলে নরম কার্পেটে পড়ে যায়, ওয়েন মিং রাগে উন্মত্ত হয়ে চুমু খেতে শুরু করে, শেষমেশ ই-শিয়াও ইউ এক চড় মারতেই ওয়েন মিং হুঁশে ফিরে আসে।

তিনি হুঁশ ফিরতেই শিশুর মতো ই-শিয়াও ইউ-র বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকেন, ‘‘দুঃখিত... তোমার সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি... কিন্তু আমি নিজেকে থামাতে পারিনি... দুঃখিত...’’

‘‘ওয়েন মিং, ছেড়ে দাও আমাকে,’’ ই-শিয়াও ইউ নিচু স্বরে বলে, ‘‘আমার এখন বাড়ি ফেরা উচিত।’’

ওয়েন মিং উঠে দাঁড়ায়, মুখটা ফ্যাকাশে, সে যেন কোনো দোষ করেছে এমন, ই-শিয়াও ইউ-র চোখে চোখ রাখতে পারে না, ‘‘এইমাত্র... দুঃখিত।’’

ই-শিয়াও ইউ পোশাক ঠিক করতে করতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ‘‘যাই হোক, তোমার সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ।’’

এমন সময়, দরজার বাইরে ইউ লাও দা জোরে জোরে দরজা ঠুকতে শুরু করে।

‘‘দরজা খোলো! দরজা খোলো!’’

ইউ লাও দা-র কণ্ঠ শুনে ই-শিয়াও ইউ-এর মুখ মুহূর্তে বিবর্ণ হয়ে যায়, এমন অবস্থায় ওই মোটা মাথার ছেলেকে কীভাবে বোঝাবে কে জানে!

‘‘চাও তো লুকিয়ে থাকো,’’ ওয়েন মিং পরামর্শ দেয়।

‘‘প্রয়োজন নেই,’’ ই-শিয়াও ইউ এগিয়ে গিয়ে দরজা খোলে, ‘‘সে জানে আমি এখানেই।’’

দরজা খোলামাত্র, ইউ লাও দা রাগান্বিত চোখে দু’জনের দিকে তাকায়।

‘‘ওয়েন মিং মাতাল, আমি ওকে পৌঁছে দিয়েছি, তুমি এখানে কিভাবে এলেছো?’’

ই-শিয়াও ইউ-র সৎ দৃষ্টি দেখে ইউ লাও দা-র রাগ যেন বর্ষার বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়, ওয়েন মিং-এর দিকে, আবার ই-শিয়াও ইউ-র দিকে তাকায়, মনে মনে নিজেকে বোঝাতে থাকে, ওই ছেলেটার জন্য আর স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করবে না, নইলে তো ওরই ফাঁদে পা দেওয়া হবে।

ইউ লাও দা গভীর শ্বাস নেয়, ‘‘আমি তোমাকে বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছি।’’

ই-শিয়াও ইউ ওয়েন মিং-কে বিদায় জানিয়ে ইউ লাও দা-র হাত ধরে লিফটের দিকে হাঁটে।

লিফটে উঠে ই-শিয়াও ইউ দেখে, ইউ লাও দা একের পর এক গভীর শ্বাস নিচ্ছে, মুচকি হেসে বলে, ‘‘কি হলো, দম বন্ধ হয়ে আসছে?’’

ইউ লাও দা গম্ভীর হয়ে বলে, ‘‘নিজেকে শান্ত রাখছি, ভয় পাই আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারব না।’’

‘‘তুমি এখনও বললে না এখানে কেন?’’

ইউ লাও দা মুখ গোমড়া করে, ‘‘...তুমি ওই ছেলেটাকে বাড়ি পৌঁছে দিলে আমি কিছু বললাম না, এখনো জিজ্ঞেস করছো?’’ একটু থেমে আবার ফিসফিস করে, ‘‘তুমি তো বলেছিলে কাজে আছো।’’

‘‘তুমি...’’ ই-শিয়াও ইউ কথা আটকে যায়, শেষে হেসে বলে, ‘‘ঠিক আছে, এটা আমারই ভুল।’’

ই-শিয়াও ইউ ইউ লাও দা-র সামনে গিয়ে দুই হাত দিয়ে তার গাল চেপে ধরে, ‘‘এবার বেশ শান্ত ছিলে, মোটা, সত্যি তোমাকে নতুন চোখে দেখলাম।’’

স্ত্রী তার মুখ চেপে ধরায় ইউ লাও দা-র মনে খুশির জোয়ার, কিন্তু ই-শিয়াও ইউ-র গলায় চুমুর দাগ দেখে তার মাথায় যেন বাজ পড়ে।

‘‘কি হলো?’’ ই-শিয়াও ইউ ইউ লাও দা-র হঠাৎ হঠাৎ দম নিতে দেখে মুচকি হেসে বলে, ‘‘আবার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?’’

ইউ লাও দা প্রাণপণে গভীর শ্বাস নিতে থাকে, কিন্তু কিছুতেই মনের আগুন নেভাতে পারে না, লিফটের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ই-শিয়াও ইউ-কে ধাক্কা দিয়ে এক মুহূর্তে বেরিয়ে যায়।