০০৪: বিচ্ছেদ, কিন্তু আলাদা থাকা নয়
সে刚刚 ভোজনসমাপ্ত করে ফিরেছে, চোখে এখনও রক্তিম মদের ছাপ লেগে আছে। আঙুলের ফাঁকে ধরা সিগারেটটি নামতার কাঁধে আলতো ছোঁয়াচ্ছে, পুরো কাঁধখানা মুঠোয় ধরে ঠোঁটে ঠাণ্ডা হাসি ছড়িয়ে সামনে হতবিহ্বল হয়ে থাকা লিউ হাংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
নামতাও বিস্মিত হয়ে পড়েছিল, লু ইয়ের কীভাবে জানল সে এখানে আছে? আর, সে ঘরে ফেলে আসা জিনিসগুলো কি লু ইয়ের দেখেছে? নামতার মনে একরাশ উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ল।
ঠিক এমন সময় লু ইয়ের দুইবার ঠাণ্ডা সুরে হাসল, তাকে কোলে টেনে সোফায় বসাল। পা দুটো চা-টেবিলের ওপর এলিয়ে দিল, সুঠাম প্যান্টের ভেতরে ছাপানো মাংসপেশি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কেবল নামতা জানে, ওই প্যান্টের নিচে প্রতিটি ইঞ্চিতে কতটা শক্তি লুকিয়ে আছে।
সিগারেটটা চামড়ার সোফায় নিভিয়ে, নামতার কাঁধে পড়ে থাকা ছাইটা ঝাড়ল, ভ্রু তোলা দৃষ্টিতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লিউ হাংয়ের দিকে তাকিয়ে চিবুক উঁচিয়ে বলল, ‘‘জিজ্ঞেস করো না, জানতে তো খুব ইচ্ছা ছিল? এখন চুপ কেন?’’
লিউ হাং ভাবতেই পারেনি লু ইয়ের এখানে আসবে, তাও আবার নামতার পক্ষ নেবে। ভয়ে গলা কাঁপছে, কথাও জড়িয়ে যাচ্ছে, ‘‘লু গবেষক, আমার এ রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’’
‘‘কী কোনো উদ্দেশ্য ছিল না?’’
‘‘নাম মিসকে অপমান করার কোনো ইচ্ছে ছিল না, আমি তো আসলে প্রশংসাই করছিলাম, লু গবেষক, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সবই ভুল।’’
লিউ হাংয়ের মুখ ঘামে ভিজে গেছে, ভদ্রলোক বিপন্ন হলে কুকুরের চেয়েও দুর্দশাগ্রস্ত দেখায়।
লু ইয়ের সাধারণত এমন অবস্থায় কাউকে অপমান করার অভ্যাস নেই, কিন্তু এবার… তাঁর চোখ বিপজ্জনকভাবে সংকুচিত হলো, লিউ হাংয়ের পেছনে থাকা লোকদের কাছে ইশারা করল, সঙ্গে সঙ্গে তারা আজ্ঞাবহ কুকুরের মতো এগিয়ে এল।
লিউ হাংয়ের তুলনায়, লু ইয়ের শক্তি ও মর্যাদা তাদের আরও বেশি আকৃষ্ট করে।
‘‘তাকে ভালো করে প্রশংসা করো,’’ শেষে আরও যোগ করল, ‘‘জোরে জোরে।’’
তারা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেল, একের পর এক চড় আর ঘুষি লিউ হাংয়ের মুখে পড়তে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই লিউ হাং হাঁটু গেড়ে মাটিতে পড়ে গেল, মুখ দিয়ে টাটকা রক্ত গড়াতে লাগল।
যথেষ্ট হয়েছে দেখে লু ইয়ের আবার চিবুক তুলে তাদের থামতে বলল, নামতার কোমর জড়িয়ে লিউ হাংয়ের সামনে নিয়ে গেল।
‘‘লিউ অধ্যক্ষ, খুশি তো? আমি এভাবে প্রাণপণে তোমার প্রশংসা করছি—তুমি নিশ্চয়ই খুব আনন্দিত?’’
লিউ হাংয়ের কয়েকটি দাঁত ইতিমধ্যেই ভেঙে গেছে, মুখ খুললেই রক্ত ঝরছে, তবুও লু ইয়ের এমন প্রশ্নে বারবার মাথা নেড়ে অস্পষ্টভাবে বলল, ‘‘খুশি, খুশি।’’
‘‘খুশি হলে ভালো, সামনে আরও অনেক খুশি পাবে।’’
লু ইয়ের ঠোঁটে বিদ্রূপের হাসি ঝিলিক দিয়ে নামতাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
রুম ছেড়ে বেরোতেই নামতার চোখের কোণে দেখল, লিউ হাংয়ের শরীর ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে, বুঝে গেল, এই অধ্যক্ষ হয়তো আর বেশিদিন টিকতে পারবে না।
সে ভুলে গিয়েছিল, শ্যু পরিবার অভিজাত হলেও লু ইয়ের সম্পদ ও ক্ষমতা তাদের সমকক্ষ। শ্যু কন্যাকে বিয়ে করতে লু ইয়ের কোনোভাবেই ছোট নয়।
বাইরে আসতেই কুয়াশা আরও ঘন হয়ে উঠেছে, রাস্তা জুড়ে জলীয় ধোঁয়ায় ঢাকা। নামতার গায়ে কম কাপড়, ঠান্ডায় কেঁপে উঠল, লু ইয়ের হাত থেকে ছুটে যেতে চাইলো।
‘‘লু ইয়ের, একটু আগে তোমাকে ধন্যবাদ, অনেক দেরি হয়ে গেছে, আমি... আহ!’’
নামতার কথা শেষ হতেই, পুরুষটি জোর করে তাকে গাড়িতে ঠেলে দিল। সে রেগে গিয়ে উঠে বসল, ‘‘লু ইয়ের!’’
‘‘চিৎকার কোরো না, তোমার চাওয়া এখনই দিচ্ছি,’’ পুরুষটি গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে গলাবন্ধ আলগা করছে, হাতা খুলছে, ঠোঁটে একরাশ দুষ্টু হাসি।
নামতা চোখ পাকিয়ে বলল, ‘‘এত বাড়াবাড়ি কোরো না, রাত হয়ে গেছে, আমি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফিরে যাব।’’
বলে সে নেমে যেতে চাইলে, লু ইয়ের ওর কব্জি চেপে ধরে আসনে ঠেলে বসিয়ে দিল।
আঙ্গুরের সুবাস মেশানো পুরুষালী সুগন্ধের সাথে শীতল রাতের হাওয়া এসে লাগল, তাতে মদের ঘ্রাণ কিছুটা হালকা হয়ে গেল।
পুরুষটি বেল্ট খুলে গাড়িতে উঠে পড়ল, বিরতিহীন হাতে কাজ করতে করতে ঠোঁটে বিদ্রূপের হাসি টেনে বলল, ‘‘ফিরবে, কোথায়? বলছিলে না, আলাদা হয়ে যাবে? তবে কি, বিচ্ছেদ খেলেও এক ছাদের নিচে থাকবে?’’
শুনেই নামতা চুপ করে গেল।
সে চিঠিটা পড়েছে।