পথে পতিত হবার অনুভূতি—বিচ্ছিন্নতার দিনলিপি
অতিরিক্ত অবসর, পড়ার বই নেই, নাটক নেই, সিনেমাও নেই।
কেউ একটু প্রলুব্ধ করলেই তুমি লেখায় মন দাও।
তারপর যখন সত্যিই লিখতে বসো, তখন বুঝতে পারো—আসলে বইয়ের অভাব নেই, নাটকগুলো অসাধারণ, সিনেমার কথা না-ই বলি।
তারপর একে একে কত কিছু ঘটতে থাকে—এক বছরে দু'বার বাসা বদলানো, এমনকি অফিসও বড় আকারে স্থানান্তরিত।
জীবন বলেই তো এত অভিজ্ঞতা, এত উপকরণ জমা হয়।
দুঃখের বিষয়, লেখার হাতটা একেবারে বাজে, শুধু মনের মধ্যে নানা কল্পনা ঘুরে বেড়ায়।
যাক, এখন আমি এমন এক ছুটিতে আছি যা টাকায় বদলানো যায় না, সেই ছুটি কাটাতে বেরিয়েছি।
মধ্যবয়সে এসে, বছরে এত ছুটি জমে যায় যে ঘুরতে বের না হয়ে উপায় থাকে না।
ঠিকই, লেখার সময় নেই—এটা শুধু বাহানা।
ভ্রমণ, আনন্দই সত্যিকার পথ।
হাতের আঙুল গুনে দেখি, অক্টোবর মাসে লেখার সময় আর থাকল না।
নভেম্বরে আবার বাসা বদলের জন্য শুভ দিন খুঁজে নিতে হবে, আরও দুই সপ্তাহ উধাও।
ঠিক আছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষে আবার লেখায় ফিরতে পারব, তখন হয়তো আগের লেখা কিছুই মনে থাকবে না।
এটাই তো চরম ব্যর্থতা।
তবে নিজেকে ছোট্ট একটা লক্ষ্য দিই—
৩৮ জন বিনিয়োগকারী—তাদের জন্য ভিআইপি প্রকাশে বিনিয়োগের ছোট্ট কয়েন উপার্জন করা।
তারপর চেষ্টা, এক মাসের পুরো উপস্থিতি...৩০ দিনে ৩০০০ শব্দ লেখা সম্ভব হবে না হয়তো (দেখলাম ২-৩ দিনের উপস্থিতি ছুটি নেওয়া যায়)।
পরবর্তী পরিকল্পনা—
১০/২২—ছাই মেহের জন্মদিনে একটি অধ্যায় প্রকাশ (আমি ও আমার বান্ধবী সত্যি ফুঝৌ-তে গিয়ে সি-ফুড ভোজ দিতে চাই... কেউ অতিথি করবে কি?)
১০/২৮—চেন শাওপাং-এর জন্মদিনে একটি অধ্যায় (তুমি সবচেয়ে মোটা হলেও, তুমি-ই সবচেয়ে সুন্দর আমাদের মাঝে)
১০/৩১—হ্যালোউইনে একটি অধ্যায়
১১/২—চেন ছিং-এর কনসার্টে একটি অধ্যায় (মাথায় গণ্ডগোল নাকি, এক লাখ টাকার কালোবাজারি টিকিট! তার চেয়ে বরং সেই টাকা বাঁচিয়ে, সি-ফুড ভোজ শেষে হোম পার্টিতে কনসার্টের লাইভ দেখি; এই সব কালোবাজারিরা যেন মধ্যবয়সী বুদ্ধিমান মানুষদের ঠকাতে না পারে)
১১/৫—বাবার জন্মদিনে একটি অধ্যায় (বাবা আজীবন নিজেকে সুস্থ-সবল মধ্যবয়সী সুদর্শন মানুষ ভাবেন, বাইরে গেলেই বয়স আন্দাজ করতে বলেন, ১৮! তুমি আর মা চিরকাল ১৮-তেই থাকো না?)
১১/১১—ডাবল ইলেভেনে একটি অধ্যায় (লিখতে লিখতে হয়তো কেনাকাটা করতেই ভুলে যাব, টাকা বাঁচবে)
এবার মোটামুটি শেষ, এত দূরের পরিকল্পনা সাধারণত সফল হয় না।
জানি না সম্পাদক মৌমৌ-র চোখে পড়বে কিনা।
স্বাধীন নিরুদ্দেশ লেখক হিসেবে, কেউ তাড়া দেয় না—এটাই সুখ।
তবে আমার খুব ইচ্ছে হয় ফেই দা-র ‘আমাদের বড় দিদি কঠোর এবং আকর্ষণীয়’ গল্পটা তাড়াতাড়ি আপডেট হোক।
থাক, বরং ডিসেম্বরেই উপার্জন করে, পুরস্কার দিয়ে তাড়া দেওয়াই ভালো।